🌸 হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মৃতদেহ কেন দাহ করা হয় তা নিচে বর্ননা করা হলোঃ
✅ ১️. দেহের পাঁচতত্ত্বে বিলীন হওয়া:
হিন্দু দর্শনে মানবদেহকে পাঁচ তত্ত্ব দিয়ে গঠিত বলা হয়:
পৃথিবী (মাটি)
আপ (জল)
তেজ (আগুন)
বায়ু (বায়ু)
আকাশ (আকাশ)
👉 মৃত্যুর পর দেহকে দাহ করার মাধ্যমে দেহটি আগ্নিতে (তেজ) বিলীন হয়। আগুনের মাধ্যমে বাকি তত্ত্বগুলিও তাদের উৎসে ফিরে যায়।
দেহ দাহ বা অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া (শবদাহ) নিয়ে শাস্ত্রে কিছু উল্লেখযোগ্য শ্লোক আছে। এর মধ্যে গরুড় পুরাণ ও বৃহদারণ্যক উপনিষদ-এ উল্লেখ আছে।
🌿 গরুড় পুরাণ (প্রেতখণ্ড ১০.১৫)
অগ্নির্মূর্তির্ভবত্যেষ দগ্ধঃ শরীরমাৎমনঃ।
পুনর্জন্ম ন লভতে, মুক্তো যাতি পরং পদম্॥
বাংলা অর্থ:
অগ্নিতে দেহ দগ্ধ করা হলে, সেই দেহধারী পুনর্জন্ম পায় না। সে মুক্ত হয় এবং পরম পদে (ভগবানের ধামে) যায়।
👉 অর্থাৎ, দেহ দাহ করলে পুণ্য হয় এবং পরজন্ম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় (যদি পূর্বের পাপ না থাকে)।
🌿 বৃহদারণ্যক উপনিষদ (৩.২.১৩)
অগ্নির্ণয়েন মরণান্নয়:।
অগ্নির্ণয়েন মরণা: পুণ্য:।
বাংলা অর্থ:
অগ্নিতে দাহ করার মাধ্যমে দেহ বিশুদ্ধ হয়।
👉 অর্থাৎ, মৃত্যুর পরে অগ্নিতে দেহ দাহ করা এক পবিত্র ধর্মীয় প্রথা।
🌿 অতএব
✅ শাস্ত্র মতে, মৃত্যুর পর অগ্নিদাহ করা উচিত।
✅ অগ্নিদাহ করলে দেহ শুদ্ধ হয়, পাপ ক্ষয় হয়।
✅ অগ্নি দেবতা হলেন শুদ্ধিকারক, তাই মৃত্যুর পরে দেহ অগ্নিকে অ捁র্পণ করা হয়।
✅ দেহ দাহ না করে জলে বিসর্জন বা সমাধি দেওয়াও কিছু ক্ষেত্রে করা হয় (যেমন সন্ন্যাসী ও বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য), তবে সাধারণ নিয়ম দাহ।


