🧘♂️ গুরুর বৈশিষ্ট্য (গুরু কেমন হওয়া উচিত):
১. শাস্ত্রজ্ঞ (শাস্ত্র-জ্ঞানী):
গুরু অবশ্যই বেদ, উপনিষদ, গীতা, পুরাণ ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থে পারদর্শী হতে হবে।
২. ব্রহ্মনিষ্ঠ (ঈশ্বর-নিষ্ঠ):
গুরু নিজে পরম সত্যে প্রতিষ্ঠিত হবেন — অর্থাৎ ঈশ্বরভাবনায় বা কৃষ্ণভাবনায় নিমগ্ন থাকবেন।
৩. আচার্য (আচরণে আদর্শ):
তিনিই প্রকৃত আচার্য যিনি যা বলেন, তা নিজের জীবনেও পালন করেন।
৪. নিষ্কাম ও নির্লোভ:
গুরু কোনো পার্থিব স্বার্থ বা লোভ থেকে মুক্ত থাকবেন। তাঁর উদ্দেশ্য থাকবে কেবল শিষ্যের আত্মোন্নয়ন।
৫. দয়ালু ও সহানুভূতিশীল:
শিষ্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হবে পিতার মতো – দয়া, সহানুভূতি ও করুণা-ভরা।
৬. গুরু-পরম্পরায় আবদ্ধ:
প্রকৃত গুরু নিজে কোনো স্বঘোষিত ব্যক্তি নন, বরং শাস্ত্রানুযায়ী গুরু-পরম্পরার (disciplic succession) মাধ্যমে ক্ষমতা প্রাপ্ত।
🔸 শাস্ত্র উল্লেখ:
"তদ্বিজ্ঞনর্থং স গুরুমেবাভিগচ্ছেত্
শ্রোত্রিয়ং ব্রহ্মনিষ্ঠম্।"
— মুণ্ডক উপনিষদ ১.২.১২
(আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করতে হলে শিষ্যকে একজন গুরু-র শরণ নিতে হবে যিনি শাস্ত্রজ্ঞ এবং পরম সত্যে প্রতিষ্ঠিত।)
🙇♀️ শিষ্যের বৈশিষ্ট্য (শিষ্য কেমন হওয়া উচিত):
১. বিনয়ী ও নম্র:
শিষ্যকে অহংকারহীন হয়ে গুরুর কাছে বিনয় সহকারে নিজেকে সমর্পণ করতে হবে।
২. জিজ্ঞাসু ও কৌতূহলী:
শিষ্যের মধ্যে ঈশ্বর সম্পর্কিত সত্য জানার আন্তরিক আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে।
৩. সেবা পরায়ণতা:
শিষ্য শুধু জিজ্ঞাসা করবে না, গুরুসেবার মাধ্যমে বিনয়ের প্রকাশ ঘটাবে।
৪. অনুগত ও একনিষ্ঠ:
শিষ্য গুরুর উপদেশ অনুসরণে একনিষ্ঠ থাকবে — যুক্তি করে বিরোধিতা করবে না।
৫. নিয়মিত সাধনা ও শাস্ত্র অধ্যয়ন:
শিষ্য প্রতিদিন জপ, ধ্যান, পাঠ ও আচরণে নিয়োজিত থাকবে।
🔸 শ্রীমদ্ভগবদগীতায় বলা হয়েছে:
"তদ্বিদ্ধি প্রণিপাতেন পরিপ্রশ্নেন সেবয়া,
উপদিক্ষ্যন্তি তে জ্ঞানং জ্ঞানিনস্তত্ত্বদর্শিনঃ॥"
— গীতা ৪.৩৪
(শাস্ত্রজ্ঞ গুরুর কাছে বিনয়, প্রশ্ন ও সেবা মাধ্যমে সত্য জ্ঞান অর্জন করতে হয়।)


