• "দীক্ষার অর্থ হচ্ছে দিব্য বা চিন্ময় কর্মকান্ডের আরম্ভ"
দীক্ষা, ঐ শব্দটার অর্থই হচ্ছে "এটাই আরম্ভ"। দীক্ষা, দীক্ষা।দী....দিব্য। আসলে দুটি শব্দ, দিব্য-জ্ঞান। দিব্য-জ্ঞান মানে হচ্ছে চিন্ময়, আধ্যাত্মিক জ্ঞান। তো দিব্য হচ্ছে 'দী' এবং জ্ঞানম। ক্ষয়পতি বা ব্যাখ্যা হচ্ছে 'ক্ষ'। দীক্ষা। দুটো মিলে দীক্ষা। তাহলে দীক্ষার অর্থ হচ্ছে চিন্ময় কর্মকান্ডের আরম্ভ। সেটাই হচ্ছে দীক্ষা। তাই আমরা শিষ্যদের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি নিই যে, " তোমরা এতগুলো বার নাম জপ করবে" "যথাজ্ঞা"। তোমাকে এই বিধিনিষেধ পালন করতে হবে " " যথাজ্ঞা"। এটাই দীক্ষা। শিষ্যকে অবশ্যই বিধিনিষেধ পালন করতে হবে এবং জপ করতে হবে। তাহলে সব কিছুই আপনিই শুরু করবে। ( প্রবচন, শ্রীমদ্ভাগবতম ৬.১.১৫ অকল্যান্ড, ফেব্রুয়ারি ২২, ১৯৭৩)
• দীক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত যে কারও ভক্তমূলক সেবা নিরর্থক।
অদীক্ষিতস্য বামোরু কৃতং সর্বং নিরর্থকম
পশু-যোনিম অবাপ্লোতি দীক্ষা-বিরহিত জনঃ
"সদ-গুরুর কাছ থেকে দীক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত সবধরনের পারমার্থিক কর্মকান্ড নিরর্থক থেকে যায়। যথাযথভাবে দীক্ষিত না হলে যে কোনও ব্যক্তি পশুযোনীতেও পতিত হতে পারে।
(হরি -ভক্তিবিলাস ২.৬, বিষ্ণুযামল থেকে উদ্ধৃত। শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, মধ্য ১৫.১০৮. এর তাৎপর্যে ব্যবহৃত)
• দীক্ষা একজনের পাপকর্মের ফলসমূহ বিনষ্ট করে
দীক্ষা-কালে ভক্ত করে আত্মসমর্পন, সেই কালে কৃষ্ণ তারে করে আত্ম-সম।:-
দীক্ষার সময় ভক্ত যখন সর্বোত ভাবে শ্রীকৃষ্ণের সেবায় উৎসর্গ করেন, শ্রীকৃষ্ণ তখন তাকে নিজের বলে গ্রহন করেন।
• সেই দেহ করে তার চিদানন্দময়, অপ্রাকৃত-দেহে তাঁর চরন ভজয়।
তখন তিনি তার সেই দেহ চিদানন্দময় করে তোলেন এবং সেই অপ্রাকৃত দেহে ভক্ত ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের সেবা করেন। (শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত অন্ত ৪.১৯২)
দীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও আত্মোন্নতির দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি শুধু একটি আচার নয়, বরং একজন সত্য-অনুসন্ধানীর জীবনে এক নতুন পথের সূচনা।
🕉️ দীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা:
আধ্যাত্মিক পথের সূচনা
দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে একজন শিষ্য গুরু-নির্দেশিত আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা করেন।গুরু-শিষ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা
দীক্ষার মাধ্যমে একজন যোগ্য গুরু থেকে নির্দেশনা, আশীর্বাদ ও সুরক্ষা লাভ হয়। গুরুই শিষ্যের আত্মিক পিতা-মাতা।শাস্ত্রীয় অনুমোদন ও সংযম
ভগবৎ সেবার জন্য শাস্ত্রমতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করার অধিকার তখনই মেলে, যখন দীক্ষা গ্রহণ করা হয়।নামজপ ও উপাসনায় বিশুদ্ধতা আসে
দীক্ষার মাধ্যমে ভগবানের নাম বা মন্ত্র গ্রহণ করার ফলে তা শুদ্ধভাবে উচ্চারণ ও উপাসনা করা যায়।সাধনার দৃঢ়তা ও নিয়মিততা
গুরু প্রদত্ত নিয়মাবলী মেনে চলার মধ্য দিয়ে জীবনধারা শৃঙ্খলিত হয় এবং সাধনায় স্থায়িত্ব আসে।পূর্বজন্মের কর্মফল কাটিয়ে আত্মোন্নয়ন
দীক্ষা নিলে পূর্বজন্মের পাপ ক্রমে ক্ষয় হতে শুরু করে এবং আত্মা ধীরে ধীরে পবিত্র হয়।ঈশ্বরপ্রেম জাগ্রত করার পথপ্রদর্শক
গুরু একজন সত্য শিষ্যকে কৃষ্ণপ্রেম বা ঈশ্বরপ্রেমের পথে পরিচালিত করেন।সংসার থেকে মুক্তির পথনির্দেশনা
দীক্ষা একজন মানুষকে ধীরে ধীরে মোহ, আসক্তি ও ভোগ-পরায়ণতা থেকে মুক্ত করে।
🔔 সংক্ষেপে:
দীক্ষা মানে হচ্ছে গুরু থেকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করে ঈশ্বরের পথে দৃঢ়ভাবে যাত্রা শুরু করা। এটি জীবনের এক মহার্ঘ সুযোগ যা একজন আত্মানুসন্ধানীর জন্য অত্যাবশ্যক।


