শ্রীকৃষ্ণ কার কার অবতার? রাম কি শ্রীকৃষ্ণ এর অবতার?
ধান ভানতে প্রথমে খানিক শিবের গীত গেয়ে নি। নাহলে উত্তর দিলেও বুঝতে অসুবিধা হবে । সব প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের কতকগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন ঈশ্বর সম্পর্কে একরকম ধারণা পোষণ,এক বা দুটি প্রধান ধর্ম গ্রন্থ,এক জন প্রবর্তক ও তাঁর এক বা দুজন প্রধান সহযোগী ও অনেক অনুগামী,সেই অনুগামীদের সারা পৃথিবীব্যাপী একই আচরণ ও বিশ্বাস ইত্যাদি ইত্যাদি ।এই ফর্মে যেমন আব্রাহামিক ধর্ম গুলি পড়বে,তেমনি অন্তত বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মার্কসবাদ ও পড়বে। কিন্তু সনাতন ধর্ম পড়বে না। এবার ব্যাপারটা হল একটি সংগঠিত ধর্মের থেকে মানুষ কে ধর্মান্তর বন্ধ করতে ও স্বধর্ম কে রক্ষা করতে সনাতন ধর্মের অন্তত তিনজন মহাপুরুষের অবদান প্রচুর ।তাঁরা হলেন শংকরাচার্য (বৌদ্ধধর্ম থেকে),চৈতন্যদেব (ইসলাম ধর্ম থেকে) এবং রাজা রামমোহন রায় (খৃষ্ট ধর্ম থেকে)। এখানে চৈতন্যদেব এর কথা ই বলব । উনি সুলতানী (হুসেনশাহী) যুগে অবতীর্ণ হন। চৈতন্যদেবকে আমরা ভাবুক প্রেমাবতার বলেই জানি।কিন্তু উনি একজন সমাজ সংস্কারক ও ছিলেন। এইবার ঐ ফর্মে তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম কে ফেলে দেখুন,খাপে খাপে মিলে যাবে ।
১) একই ঈশ্বরের ধারণা-এক্ষেত্রে রাধাকৃষ্ণ ।
২) মূল ধর্ম গ্রন্থ- ভাগবত পুরাণ ,ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ,(পরবর্তীতে চৈতন্য চরিতামৃত ও চৈতন্য ভাগবত)।
৩) প্রবর্তক- বিশ্বম্ভর মিশ্র (চৈতন্যদেব)।
৪) প্রধান সহযোগী- নিত্যানন্দ ও অদ্বৈতাচার্য।
৫) অনুগামীদের আচরণ- তিলক-মালা-শিখা ধারণ,নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ,নাম জপ ।
এছাড়া সনাতন ধর্মের বর্ণাশ্রম,বিবাহ, ব্রাহ্মণের বিশেষ অধিকার অস্বীকার ইত্যাদি ও গ্রহণ করা হয়েছিল যেকোনো মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ।
সনাতন ধর্মে জীবনের মূল উদ্দেশ্য মোক্ষ বা নির্বান ।(নির্বাণ পরিভাষা টি বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তনের আগেও সনাতন ধর্মে ছিল।) কিন্তু নব বৈষ্ণব ধর্মের মূল উদ্দেশ্য স্থির হল প্রেম। ঠিক তেমনি প্রধান উপাস্য হলেন রাধা।যাঁর উল্লেখ ঐ ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ ছাড়া আর কোথাও নেই ।এই পুরাণটি বিদেশি শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক পরে রচিত একটি উপপুরাণ ।
সনাতন ধর্মের প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থ যেমন ভাগবত,হরিবংশ,মহাভারত ইত্যাদি সব জায়গায় বলা হয়েছে বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম ও অষ্টম অবতার কৃষ্ণ । আর বিষ্ণুর অবস্থান বৈকুণ্ঠে । এনারা কৃষ্ণ কে বিষ্ণুর ও ওপরে স্থান দিয়ে গোলকের ধারণা নিয়ে এলেন। গীতার বিখ্যাত শ্লোক এ তো পরিস্কার বলাই হয়েছে-
"যদা যদা হি ধর্মস্য
গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য
তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥
পরিত্রাণায় সাধুনাং
বিনাশয় চ দুষ্কৃতাং।
ধর্মসংস্থাপনার্থায়
সম্ভবামি যুগে যুগে॥
আর তারপর বুদ্ধ রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন যদি ধরে নিই এবং কলির শেষে অবতীর্ণ হবেন কল্কী অবতার সেও তো বিষ্ণুর ই অবতার । আমরা শুনতে পাই অনেক নব বৈষ্ণব শক্তি শিব ইত্যাদি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন । আসলে মানুষের পরিত্রাণের উপায় দেখিয়ে দিতে মহামানবগণ অবতীর্ণ হন।আর তাঁর তিরোধানের পর অনুগামীরা অপব্যাখ্যা করে উপদল তৈরি করে।কখনো সেটা ক্যাথলিক-প্রোটেষ্টান্ট,শিয়া-সুন্নি,রাশিয়া পন্থী-চিনপন্থী আবার কখনো সেটা বৈষ্ণব স্মার্ত এই আর কি !!!


