সুখ ও দুঃখের মধ্যে সম্পর্ক কী?
1 answers
195 views
Uzzwal Dhali
+1
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

সুখ ও দুঃখের মধ্যে সম্পর্ক কী ?

জড় সুখ ও দুঃখ যমজ ভাইয়ের মত ।।

সুখ উপভােগের জন্য পৃথিবীতে অনেক বিষয় রয়েছে কিন্তু এর কোনটিই পূর্ণ সুখ প্রদানকরতে পারে না। যেমন একটি প্রবাদ রয়েছে, “ সমুদ্রে সর্বত্রই জল কিন্তু কোথাও এক ফোঁটা পানীয়জল নেই।”

আমরা এই জগতে বহু উপভােগ্য বস্তুর সুখ দ্বারা পরিবেষ্টিত রয়েছি কিন্তু সুখ আমাদেরকে এড়িয়ে যায়। যৌবনে সুখ লাভের জন্য লােকেরা বহু পাপকার্যে লিপ্ত হয়।

কিন্তু সেই সংগ্রামের শেষ কোথায়??? মিষ্টান্ন যেমন মিষ্টি মিশ্রিত থাকে তদ্রুপ পার্থিব সুখ সর্বদা দুঃখমিশ্রিত থাকে। দুঃখকে ‘অতিথি’ বা ‘অপ্রত্যাশিত অতিথি’ বলা হয় অর্থাৎ না চাইতে সবার দরজায় কড়ানেড়ে আসে। যেমন, ধূমপান-ক্যান্সারের কারন, অবৈধ যৌনসঙ্গ-এইডসের কারন, মদ-লীভার সমস্যার কারন, তামাক দ্রব্য-ব্রঙ্কাইটিসের কারন। সুখ ও দুঃখ যমজ ভাইয়ের মতাে। তারা একই মুদ্রার দুটি পিঠ। সুখ ও দুঃখ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জড় আনন্দ এবং বেদনাকে অবিচ্ছেদ্য অনুধাবন করে জ্ঞানী এবং যােগীরা উভয়টিকে বর্জন করে। তারা আনন্দকে অস্বীকার করার জন্য স্বেচ্ছায় দুঃখকে স্বীকার করে- গ্রীষ্মে তারা তাদের চারপাশে অগ্নিকুন্ড স্থাপন করে এবং শীতে তারা ঠাণ্ডা জলের মধ্যে ধ্যান করে।

আমরা সাধারণত গ্রীষ্মে এ.সি কক্ষে থাকতে চাই এবং শীতে একটি ঘন কম্বলের নীচে গড়াগড়িদিতে পছন্দ করি। আমরা সুস্বাদু আহার্য খেতে পছন্দ করি কিন্তু যােগীগণ ফল, মূল এবং কন্দ আহার করেন যাতে কোন স্বাদ নেই।

আমরা বন্ধু এবং আত্মীয়দের সাথে একটি পরিবারে বাস করছি, যােগীগণ সকল সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে একাকী বাস করার জন্য বনে গমণ করেন।

এইভাবে আনন্দকে অস্বীকার করে যােগীরা সুখ-দুঃখ, শীত-তাপ , সম্মান-অসম্মানের দ্বৈততাকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন।

একজন জ্ঞানী অথবা যােগীর মতাে নিজেকে অত্যাচার না করে উভয়কে অতিক্রম করার সহজ পন্থা ভক্তের রয়েছে।  তিনি কেবল কৃষ্ণের আনন্দ বিধানের জন্য সর্ব কর্ম করেন। তিনি কৃষ্ণের নিকট ভােগ নিবেদন করে কেবলমাত্র প্রসাদই গ্রহন করেন। তিনি গুরুদেবের নির্দেশানুসারে কৃষ্ণের সেবায় তার দেহ, মন এবং বাক্যকে অর্পন করেন এবং এভাবে তার সকল ভাবনা, বাক্য অথবা কর্মকে চিন্ময়ীকরণ করেন।

গুরুদেব নির্দেশ দিলে তিনি একটি বৃক্ষের নীচে অথবা একটি রাজ প্রাসাদে বাস করতে পারেন- এভাবে তিনি কোনটি ভুল এবং কোনটি শুদ্ধ সে সম্পর্কে তার স্বাধীন ইচ্ছা পরিত্যাগ করেন। বরং তিনি কেবল গুরুর নির্দেশ পালন করেন এবং তার আনন্দ বিধানের জন্যই কেবল কার্য করেন।

গুরু এবং কৃষ্ণের জন্য তিনি তার জীবন দিতে পারেন এবং তার নিজের জন্য ভগবানের সম্পত্তির এক পয়সাও ব্যবহার করেন না । এভাবে ভগবানের আনন্দ বিধানের জন্য জীবনযাপন করে তিনি সুখ এবং দুঃখের দ্বৈততাকে অতিক্রম করেন। সেজন্য ভক্তিপথ খুব মসৃণ ও সরল। তারা জ্ঞানী এবং যােগীদের মতাে নয়।

ভক্ত কৃত্রিমভাবে আনন্দ থেকে বিরত হয়ে সর্বদা ভগবানের নাম, রুপ, গুন ও লীলা শ্রবন ও কীর্তন করে অপ্রাকৃত আনন্দ লাভ করেন।।

🙏 হরিনাম করোরে ভাই আর সব মিছে
পালাবার পথ নাই যম আছে পিছে।। 🙏

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।