ভগবদ্গীতার আলোকে, সত্যিকারের জ্ঞান (দিব্য জ্ঞান বা আত্মজ্ঞান) দ্বারা যে জিনিসটি ধ্বংস হয়, তা হলো অজ্ঞতা (অবিদ্যা) — যা আমাদের জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে।
ভগবদ্গীতা ৪.৩৬ – শ্রীকৃষ্ণ বলেনঃ
অপি চেদসি পাপেভ্যঃ সর্বেভ্যঃ পাপকৃত্তমঃ ।
সর্বং জ্ঞানপ্লবেনৈব বৃজিনং সন্থরিষ্যসি ।।
অনুবাদঃ তুমি যদি সমস্ত পাপীদের থেকেও পাপিষ্ঠ বলে গণ্য হয়ে থাক, তা হলেও এই জ্ঞানরূপ তরণীতে আরোহণ করে তুমি দুঃখের সমুদ্র পার হতে পারবে।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক হলো চতুর্থ অধ্যায়ের ৪২ নং শ্লোক। এই শ্লোকে ভগবান বলেছেন -
তস্মাদ্ অজ্ঞানসম্ভূতং হৃৎস্থং জ্ঞানাসিনাত্মনঃ ।
ছিত্বৈনং সংশয়ং যোগম্ আত্মিষ্ঠোত্তিষ্ঠ ভারত ।।
অনুবাদঃ অতএব তোমার হৃদয়ে যে অজ্ঞানপ্রসূত সংশয়ের উদয় হয়েছে, তা জ্ঞানরূপ খড়্গের দ্বারা ছিন্ন করো। হে ভারত, যোগাশ্রয় করে তুমি যুদ্ধ করবার জন্য উঠে দাঁড়াও।
তাহলে জ্ঞান দ্বারা কী ধ্বংস হয়?
ধ্বংস হয় - অর্থ
অজ্ঞতা (অবিদ্যা) - আমি শরীর”, “আমি ভোগী”, “ঈশ্বর নেই” — এসব ভ্রান্ত ধারণা
সংশয় - “আমি কী?”, “ভগবান সত্যিই আছেন কিনা?” — এমন দ্বিধা
পাপফল - শুদ্ধ জ্ঞান পাপের শিকড় উপড়ে ফেলে
আসক্তি ও মোহ - ভগবান ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি আসক্তি ধ্বংস হয়
জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন - সঠিক জ্ঞান জীবকে মোক্ষের পথে চালিত করে
পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞান দ্বারা ধ্বংস হয় — পাপ, সংশয়, অজ্ঞতা, ও বন্ধন।
এই জ্ঞান কোনো সাধারন তথ্য নয়, এটি হল আত্মা ও পরমাত্মার সম্পর্ক বোঝা, এবং জীবের আসল পরিচয় উপলব্ধি করা।
এই জ্ঞান ভগবানের কৃপা ও ভক্তিসাধনার মাধ্যমে লাভ করা যায়।