রামায়ণ অনুযায়ী রাবণ সীতাকে অপহরণ করেছিলো এর পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
১. শূর্পণখার অপমানের প্রতিশোধ
রাবণের বোন শূর্পণখা রাম ও লক্ষ্মণের কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেন। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি সীতার ওপর আক্রমণ করতে গেলে লক্ষ্মণ তাঁর নাক ও কান কেটে দেন। এতে রাবণ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২. সীতার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হওয়া
শূর্পণখা রাবণকে সীতার অসাধারণ সৌন্দর্যের কথা বলে। এতে রাবণ সীতাকে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।
৩. রামকে আঘাত করা
রাবণ জানত, সীতা ছিলেন রাম-এর প্রিয়তমা। তাই সীতাকে অপহরণ করে তিনি রামকে মানসিকভাবে কষ্ট দিতে চেয়েছিলেন।
৪. মারীচের সাহায্যে ছলনা
রাবণ মারীচ-কে সোনার হরিণের রূপ ধারণ করতে বলে। সেই হরিণ ধরতে রাম দূরে গেলে এবং পরে লক্ষ্মণও কুটির ছেড়ে গেলে, রাবণ সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে এসে সীতাকে অপহরণ করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
রামায়ণের অধিকাংশ সংস্করণে বলা হয়েছে, রাবণ সীতাকে অপহরণ করলেও তিনি তাঁকে জোরপূর্বক স্পর্শ বা ভোগ করেননি। তিনি সীতাকে লঙ্কার অশোকবাটিকায় বন্দি রেখে তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সীতা তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
এই ঘটনার ফলেই পরবর্তীতে রাম ও রাবণের মধ্যে লঙ্কার যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাবণের মৃত্যু ঘটে।


