ভগবদ্গীতা অনুযায়ী কর্ম তিন প্রকারঃ
১. কর্ম (Karma)
২. অকর্ম (Akarma)
৩. বিকর্ম (Vikarma)
১. কর্ম (Karma) —
শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী কর্ম এই কর্ম হলো বৈদিক বা শাস্ত্রসম্মত কর্তব্যকর্ম।
যেমনঃ যজ্ঞ, দান, তপস্যা, গৃহস্থের দায়িত্ব পালন এবং সমাজ ও আত্মার কল্যাণে নির্দিষ্ট নিয়মে ধর্মীয় জীবনযাপন।
এই কর্ম করলে পুনর্জন্ম হয়, তবে সৎ কর্ম করলে ভালো গতি হয়, যেমন: স্বর্গ, বা বিভিন্ন উর্ধ্বলোক প্রাপ্তি।
কিন্তু মুক্তি মেলে না, কারণ ফল আকাঙ্ক্ষার কারনে এতে বন্ধনের কারণ থেকে যায়।
২. অকর্ম (Akarma) —
নিষ্কাম ভক্তি কর্ম নিষ্কাম কর্মযোগ হলো নিজের কর্মফল ভগবানে অর্পণ করা।
এই কর্ম হলো এমন কর্ম যা বাইরে থেকে "কর্ম" মনে হলেও আসলে তা ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য করায়, এতে কোনো বন্ধন তৈরি হয় না।
এই কর্মই মুক্তির পথ — এটি জীবকে জড়জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত করে এবং কৃষ্ণভাবনায় স্থিত করে।
যেমন: কৃষ্ণসেবা, জপ, কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, গীতা প্রচার, ভক্তসেবা গীতায় ভগবান বলেছেনঃ
"যজ্ঞার্থাৎ কমর্ণোহন্যত্র লোকোহয়ং কর্মবন্ধনঃ ।
তদর্থং কর্ম কৌন্তেয় মুক্তসঙ্গঃ সমাচর ।।"
— গীতা ৩.৯ (তৃতীয় অধ্যায়, ৯ নং শ্লোক)
অনুবাদঃ বিষ্ণুর প্রীতিবিধান করার জন্যই কেবল কর্ম করা উচিত, তা না হলে কর্মই এই জড় জগতে বন্ধনের কারন হয়। হে কৌন্তেয়, তাই তাঁর সন্তুষ্টি বিধানের জন্যই কেবল তুমি তোমার কর্তব্যকর্মের অনুষ্ঠান কর এবং এভাবেই তুমি সর্বদা বন্ধন থেকে মুক্ত থাকতে পারবে।
৩. বিকর্ম (Vikarma) —
শাস্ত্রবিরুদ্ধ কর্ম এগুলো হলো এমন কাজ যা শাস্ত্র ও ধর্মবিধানের বিরুদ্ধে।
যেমনঃ পাপাচার, মিথ্যাচার, নেশা, মাংসাহার, ব্যভিচার এবং নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোগ-বিলাস, ঈশ্বরবিমুখতা।
এই কর্ম জীবকে নিম্নগতি, কষ্ট, ও দুঃখজনক জন্মে ঠেলে দেয় (যেমন, পশু জন্ম)।
শাস্ত্রে বলা হয়েছেঃ "যে ব্যক্তি শাস্ত্রবিধি অমান্য করে, সে কখনো শুদ্ধ সুখ, সিদ্ধি বা মোক্ষ লাভ করতে পারে না।"
যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য, বর্ততে কামকারতঃ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি, ন সুখং ন পরাং গতিম্॥
— গীতা ১৬.২৩ (ষোড়শ অধ্যায়, ২৩ নং শ্লোক)
অনুবাদঃ যিনি শাস্ত্রের বিধান ত্যাগ করে, নিজের ইচ্ছামতো (কামনায়) কার্য করেন, তিনি না সিদ্ধি, না সুখ, না পরম গতি কিছুই লাভ করেন।
কর্মের ধরন - ফলাফল - বন্ধন/মুক্তি
কর্ম (শাস্ত্রসম্মত) - স্বর্গ, পুণ্য - বন্ধন আছে
অকর্ম (ভক্তিকর্ম) - কৃষ্ণপ্রেম, মোক্ষ - মুক্তি
বিকর্ম (শাস্ত্রবিরুদ্ধ) - পাপ, দুর্ভোগ - কঠিন বন্ধন
তাই, ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য নিষ্কামভাবে কর্ম করাই হলো মুক্তির একমাত্র পথ। এটাই শ্রীমদভাগবদ গীতার মূল বার্তা।


