পাঁচটি।
১.ঈশ্বর
২.জীব
৩.প্রকৃতি
৪.কাল
৫.
এগুলো মিলে সমগ্র সৃষ্টি ও মানব জীবনের দর্শনকে পূর্ণতা দেয়।
ঈশ্বর :ঈশ্বর শব্দের অর্থ হলো নিয়ন্তা বা কন্ট্রোলার। আমরা প্রতেকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই কিন্তু পরম নিয়ন্তা হলো কৃষ্ণ।
জীব:জীবের সরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস।দাসের কাজ হচ্ছে প্রভুর সেবা করা।
প্রকৃতি: ভগবানের দুই ধরনের প্রকৃতি রয়েছে।
১.পরা বা দৈবি প্রকৃতি
২.অপরা বা জড়া প্রকৃতি
প্রকৃতি হলো জড়জগতের মূল উপাদান যা স্বও্ব, রজ,তম-এই তিন গুনে গঠিত। তাই গুন সমূহের প্রভাবে সমস্ত চরাচর সৃষ্টি পরিবর্তন ওলয় ঘটে।মানুষকে মনোভাব আচরণ ও কর্ম এই গুন গুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়। জীব প্রকৃতির গুনে আবদ্ধ হয়ে সুখ-দুংখ,লোভ-মোহ ও কামনার বন্ধনে জড়িয়ে পড়ে।
কাল:কাল মানে ভগবানের ভয়ংকর রূপ ভগবতগীতায় বলা হয়েছে আমি সর্বগ্রাসী কাল কালই জন্ম, স্থিতি, বিনাশের চক্র পরিচালনা করে। কালের প্রভাবের হাত থেকে কোন জীব মুক্ত নয়। এই উপলব্ধি মানুষকে অনিত্য জগতের প্রতি আসক্তি কমিয়ে শাশ্বত সত্যের সমন্ধে উদ্বুদ্ধ করে।
কর্ম :কর্ম হলো প্রতেকটি জীবের চিন্তা, কথা ও কাজের সমষ্টি গীতার প্রধান শিক্ষা হলো -ভক্তি যুক্ত কর্ম। কর্মের ফল ভোগ করতে জীবকে বার বার জন্ম নিতে হয়। তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্মরণ ও ভক্তির সঙ্গে কর্তব্য কর্ম পালন করলে কর্মবন্ধ থেকে মুক্ত হয়ে কৃষ্ণ ভক্তি লাভ করা সম্ভব হয়।
এই পাঁচ তত্ব মিলিয়ে ভগবতগীতা আমাদের জীবনদর্শনের পূর্ণ পথ নির্দেশ দেয় -নিজেকে চেনা ভগবানকে স্মরন করা। প্রকৃতির গুণ বুঝে সংযমী থাকা। কালের অনিত্যতা উপলব্ধি করা এবং ভক্তিযুক্ত কর্মের মাধ্যমে ভক্তির পথে অগ্রসর হওয়া।


