ভগবদ্গীতার মূল উদ্দেশ্য হলো—জীবের চিরন্তন কল্যাণ সাধন করা, অর্থাৎ জীবকে আত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক বোঝানো, ভক্তি-যোগে স্থাপন করা এবং জড়জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত করে ভগবানের শাশ্বত ধামে পৌঁছে দেওয়া।
ভগবদ্গীতার উদ্দেশ্য – সংক্ষেপেঃ
উদ্দেশ্য - ব্যাখ্যা
১. আত্মস্বরূপ বোঝানো - "আমি এই শরীর নই, আমি আত্মা" — জীবের প্রকৃত পরিচয়
২. ভগবানের স্বরূপ প্রকাশ - ভগবান শ্রীকৃষ্ণই পরমেশ্বর, সকল কিছুর আধার ও নিয়ন্তা
৩. কর্ম, জ্ঞান, যোগ, ও ভক্তির মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করা - জীবের উন্নতিসাধনে কোন পথ শ্রেষ্ঠ তা বোঝানো
৪. জীবকে তার ধর্ম পালন করাতে উৎসাহিত করা - নিজের কর্তব্য (ধর্ম) পালন করে ভগবানে আশ্রয় নেওয়া
৫. ভক্তি-যোগের শ্রেষ্ঠত্ব স্থাপন করা - সমস্ত যোগপথের শেষ পরিণতি হলো নিঃস্বার্থ ভক্তি
৬. মোক্ষ বা মুক্তির পথ দেখানো - কৃষ্ণভক্তির মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে চিরমুক্তি
গীতার অন্তিম বার্তাঃ
সর্ব ধর্মান্ পরিত্যজ্য, মামেকং শরণং ব্রজ ।
অহং ত্বাং সর্বপাপে ভ্যো, মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ॥
— ভগবদ্গীতা ১৮.৬৬
অনুবাদঃ সর্বপ্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করবো। তুমি শোক করো না।
এই শ্লোক টি গীতার চূড়ান্ত সারাংশ।
শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেনঃ
“ভগবদ্গীতার উদ্দেশ্য হলো আত্মজীবনের ভিত্তি স্থাপন করে মানুষকে ঈশ্বরের প্রতি আত্মসমর্পণের পথ দেখানো। এটি কোনো মতবাদ নয় — এটি জীবনধারণের বিজ্ঞান।”