হিরণ্যকশিপোর্বক্ষঃ শিলাটঙ্ক-নখালয়ে – হিরণ্যকশিপোর্বক্ষঃ-হিরণ্য অর্থ ‘সোনা’ যার সোনা তথা ধন-সম্পদের উপর মোহ এবং কশিপো অর্থ ‘কমল শয্যা’ অর্থ্যাৎ হিরণ্যকশিপু কামী ও লোভী। শিলা অর্থ ‘পাথর’। ভগবান নৃসিংহদেব নখ দিয়ে হিরণ্যকশিপুর পাথরের মতো বক্ষকে বিদীর্ণ করে তার দেহের অভ্যন্তরের সমস্ত অঙ্গগুলো বের করেন।
শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচ প্রকার ব্যক্তির হৃদয় পাথরের মতো।
১. নাস্তিক (বৈদিক শাস্ত্রকে অস্বীকার করে ও ভগবানে অবিশ্বাসী)
২. মায়াবাদী (ভগবানের সাকার রূপকে মানে না, নিরাকার রূপে বিশ্বাসী)
৩. দেবতা পূজক
৪. বৈষ্ণব অপরাধী
৫. কপট ভক্ত
হিরণ্যকশিপুর নাস্তিক তাই তার হৃদয় ‘শিলাটঙ্ক’ পাথরের মতো। ভগবান নৃসিংহদেব অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে হিরণ্যকশিপুর পাথরের মতো দৃঢ় বক্ষ ছিন্নভিন্ন করে।
ভগবান স্বয়ং ভগবদ্গীতাতে বলেছেন, কাম, ক্রোধ ও লোভ হলো তিনটি নরকের দ্বার। কিন্তু ভগবানের ক্রোধ হলো দিব্য, জড় নয়। আমরা যখন ভগবানের রাসলীলা শ্রবণ করি তখন আমাদের কাম দূরীভূত হয়। আবার যখন আমরা নৃসিংহলীলা শ্রবণ করি তখন ক্রোধ দূরীভূত হয়। অনেকেই ক্রোধিত হয়েছেন। কিন্তু শুদ্ধ ভক্তের ব্যবহার দেখে আমরা তার গভীরতা বুঝতে পারি না। যেমন সমুদ্রে হাজার হাজার তরঙ্গ সৃষ্টি হলেও আমরা বুঝতে পারি না সমুদ্রের গভীরতা কতো? তেমনি বৈষ্ণব কখনো ক্রোধ করবে, কখনো ভালোবাসবে এভাবে আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখতে পারি। কিন্তু অন্তরে সে কৃষ্ণের সাথে গভীরভাবে যুক্ত থাকায় বাহিরে কোনো বিষয় তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে না।
ইতো নৃসিংহ পরতো নৃসিংহ যতো যতো যামি ততো নৃসিংহ-নৃসিংহদেব সর্বত্র রয়েছেন। প্রভুপাদের শিষ্য বিবিটি’র সম্পাদক শ্রীমৎ জয়াদ্বৈত স্বামী প্রভুপাদকে জিজ্ঞাসা করেন:
শ্রীমৎ জয়াদ্বৈত স্বামী: অহোবিলামেই কি হিরণ্যকশিপুকে বধ করা হয়েছে? ওখানে যে স্তম্ভ আছে সেখান থেকেই কি প্রকাশিত হয়েছিলেন?
প্রভুপাদ: তুমি এসব কেনো জিজ্ঞাস করছো? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভগবানের কাছে প্রার্থনা, ভজন, পূজা ও জপ করা। তিনি কোথায় আবির্ভূত হয়েছেন এসবের জন্য প্রচেষ্টা করো না।
ভক্ত: সবই ঠিক আছে। আমরা শুধু জানতে চাইছি সেই স্তম্ভ থেকেই এসেছে কি?
প্রভুপাদ: (বিরক্ত হয়ে) তোমরা কেনো ভগবানকে সীমাবদ্ধ করছো! ইতো নৃসিংহ পরতো নৃসিংহ যতো যতো যামি ততো নৃসিংহ, যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় ভগবান আসতে পারে, তুমি ভগবানকে সীমাবদ্ধ করো না।