দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারাণীর মধুর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে ঝুলন যাত্রা উৎসবের সূচনা হয়।
ঝুলন যাত্রার পেছনের ইতিহাস ও কারণ:
ঐতিহাসিক লীলা: বৈষ্ণব শাস্ত্রানুসারে, বৃন্দাবনে বর্ষাকালে যখন কদম ফুল ফুটত এবং চারপাশ সবুজ ও মনোরম হয়ে উঠত, তখন শ্রীকৃষ্ণ, রাধারাণী এবং অন্যান্য গোপীগণ বর্ষা উদযাপন করতে গাছের ডালে দোলনা বা ঝুলন টাঙিয়ে দোল খেতেন। কৃষ্ণের এই মধুর দোললীলাই পরবর্তীতে 'ঝুলন যাত্রা' নামে পরিচিত লাভ করে।
চৈতন্যদেবের প্রভাব: বৈষ্ণব ধর্মের সংস্কারক শ্রীচৈতন্যদেব এবং ষড় গোস্বামীর হাত ধরে এই ব্রজলীলা সাধারণ মানুষের উৎসবে রূপ নেয় এবং নবদ্বীপে ও পরবর্তীতে বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত হয়।
কিভাবে এই উৎসব উদযাপিত হয়:
সময়কাল: শ্রাবণ মাসের শুক্লা দ্বিতীয় তিথি থেকে শুরু হয়ে শ্রাবণী পূর্ণিমা (ঝুলন পূর্ণিমা) পর্যন্ত টানা ৫ দিন এই উৎসব চলে।
আয়োজন: মন্দির ও বাসাবাড়িতে রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহকে সুসজ্জিত দোলনায় বসানো হয়। পুরো এলাকা ফুল, আলো এবং পাতার লতা দিয়ে বৃন্দাবনের পরিবেশের মতো সাজানো হয়।
পূজা ও কীর্তন: প্রতিদিন বিগ্রহকে দোলানো হয়, সঙ্গে চলে নামসংকীর্তন, ভজন, নৃত্য এবং রাধা-কৃষ্ণের লীলা কীর্তন। ঝুলন পূর্ণিমার দিন বিশেষ পূজা ও ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।


