লক্ষ্মীপূজায় কলার পাতা, কলাগাছ বা ‘কলাবৌ’ (নবপত্রিকা) ব্যবহারের পেছনে পৌরাণিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিকভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে:
১. সমৃদ্ধি ও উর্বরতার প্রতীক
কলাগাছ খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং একবার ফল দেওয়ার পর তার গোড়া থেকে নতুন চারা জন্মায়। এটি বংশবৃদ্ধি, অবিচ্ছিন্ন সমৃদ্ধি ও উর্বরতার (Fertility & Prosperity) প্রতীক। দেবী লক্ষ্মী হলেন ধন ও শস্যের দেবী, তাই গৃহের উন্নতি ও সমৃদ্ধির কামনায় কলাগাছ ব্যবহার করা হয়।
২. শস্যলক্ষ্মী ও প্রকৃতির পূজা
প্রাচীনকাল থেকেই হিন্দু ধর্মে প্রকৃতিকে ঈশ্বরের রূপ হিসেবে পূজা করার রীতি রয়েছে। কলাগাছ এমন একটি উদ্ভিদ যার প্রতিটি অংশ—কলা, মোচা, থোড়, পাতা ও কাণ্ড মানুষের কাজে লাগে। এই সর্বগুণী অবদান ও শস্য-সম্পদের জন্য কলাগাছকে দেবী লক্ষ্মীর প্রত্যক্ষ রূপ বা 'শস্যলক্ষ্মী' হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩. নবপত্রিকার অংশ (দেবী রূপ)
দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজায় ব্যবহৃত 'কলাবৌ' বা নবপত্রিকার নয়টি গাছের মধ্যে প্রধান গাছটি হলো কলাগাছ। দেবী পুরাণ অনুযায়ী, কলাগাছে দেবী ব্রহ্মাণীর বাস। তাই কলাগাছ স্থাপন করে পূজা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
৪. বিশুদ্ধতা ও স্থান সাজানো
সনাতন সংস্কৃতিতে কলার পাতা ও গাছকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়। যেকোনো পূজায় প্রবেশদ্বার বা পূজা মণ্ডপের চারপাশ কলাগাছ দিয়ে সাজানোকে মঙ্গলদায়ক এবং লক্ষ্মীর আগমন সহজ করার প্রতীকী রূপ হিসেবে দেখা হয়।
সহজ কথায়, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখার প্রার্থনা হিসেবেই লক্ষ্মীপূজায় কলাগাছ ব্যবহার করা হয়।


