হিন্দু শাস্ত্র (বিশেষ করে মহাকাব্য রামায়ণ) মতে, দেবী সীতার জন্ম কোনো সাধারণ মানবীয় গর্ভ থেকে হয়নি। তিনি অযোনিজা (যাঁকে কোনো গর্ভ থেকে জন্ম নিতে হয়নি) এবং তাঁকে দেবী লক্ষ্মীর অবতার বা ভূমিদেবী (পৃথিবী)-র কন্যা মনে করা হয়।
লাঙলের ফলায় আত্মপ্রকাশ (রামায়ণের কাহিনী)
মিথিলার রাজা জনক যখন সন্তানহীন ছিলেন, তখন রাজ্যে একবার ভীষণ খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। প্রজা ও ঋষিদের পরামর্শে রাজা জনক বৃষ্টি ও উর্বরতার কামনায় একটি যজ্ঞের আয়োজন করেন এবং সোনার লাঙল দিয়ে যজ্ঞের জমি চষতে শুরু করেন।
ক্ষেত জমি চষার সময় হঠাৎ লাঙলের ফলা (সীতা) মাটির নিচে আটকে যায়। রাজা জনক মাটি খুঁড়ে দেখেন, সেখানে একটি পরম সুন্দরী ও তেজস্বী কন্যাশিশু মাটির নিচ থেকে একটি স্বর্ণপাত্রে বা পাত্রে নিরাপদে শুয়ে হাসছে।
‘সীতা’ নামের অর্থ: সংস্কৃত ভাষায় লাঙলের ফলা মাটিতে যে দাগ বা রেখা তৈরি করে, তাকে বলা হয় ‘সীতা’। মাটির নিচ থেকে লাঙলের রেখার মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছিল বলেই রাজা জনক তাঁর নাম রাখেন ‘সীতা’।
জনক রাজার কন্যা ‘জানকী’
যেহেতু রাজা জনক তাঁকে মাটির নিচ থেকে প্রথম দেখতে পান এবং পরম স্নেহে নিজের কন্যার মতো কোলে তুলে নেন, তাই সীতাকে জনক রাজার কন্যা মনে করা হয়।
রাজা জনকের কন্যা হিসেবে তাঁর নাম হয় ‘জানকী’।
জনক মিথিলার রাজা ছিলেন বলে সীতাকে ‘মৈথিলী’ নামেও ডাকা হয়।
পৌরাণিক অন্যান্য তথ্য (পূর্বজন্মের কাহিনী)
কিছু পৌরাণিক কাহিনী (যেমন: অদ্ভুত রামায়ণ বা দেবী ভাগবত) মতে, সীতা ছিলেন পূর্বজন্মে বেদবতী নামক এক তপস্বিনী নারী। রাবণ যখন তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং অসদাচরণ করে, তখন বেদবতী আগুনে আত্মাহুতি দেন এবং অভিশাপ দেন যে, তিনি রাবণ ও তার বংশ ধ্বংস করার জন্যই পরবর্তীতে জন্ম নেবেন। সেই বেদবতীই সীতা রূপে মাটির নিচ থেকে আবির্ভূত হন।


