হিন্দু ধর্মে গণেশকে ‘সিদ্ধিদাতা’ বা ‘সিদ্ধিবিনায়ক’ বলা হয়, কারণ তিনি সকল প্রকার সিদ্ধি বা সাফল্যের দাতা। ‘সিদ্ধি’ শব্দের অর্থ হলো সাফল্য, পূর্ণতা বা কার্যসিদ্ধি। যে কোনো শুভ কাজ বা নতুন উদ্যোগ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বা সাফল্য লাভের জন্য তাঁর আশীর্বাদ অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।
তাঁর এই নামকরণের পেছনে পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে —
বিঘ্নহর্তা: হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি সমস্ত বাধা-বিপত্তি বা বিঘ্ন দূর করেন। কোনো কাজে যাতে কোনো সমস্যা না আসে, সেজন্য যে কোনো পূজার প্রথমেই গণেশের আরাধনা করা হয়।
বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার প্রতীক: গণেশকে জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার দেবতা হিসেবে মানা হয়। দেবতারাও তাঁর বুদ্ধিমত্তায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। যেকোনো কার্যসিদ্ধির জন্য সঠিক বুদ্ধি ও সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, যা তিনি প্রদান করেন।
ঋদ্ধি ও সিদ্ধির স্বামী: পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সিদ্ধি (আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা ও সাফল্য) এবং ঋদ্ধি (সমৃদ্ধি ও ঐশ্বর্য) তাঁর স্ত্রী। তাই তাঁর ভক্তরা বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উভয় ধরনের সাফল্যই লাভ করেন।


