দশরথ রাজাকে কেন পুত্রশোক পেতে হয়েছিলো?
1 answers
14 views
Answer
Login
1 Answer

রামায়ণের কাহিনী অনুসারে, রাজা দশরথকে তাঁর জীবনের শেষ সময়ে তীব্র পুত্রশোকে (শ্রীরামচন্দ্রের বনবাসের কারণে) আকুল হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। এর পেছনে ছিল তাঁর তরুণ বয়সে করা একটি অনিচ্ছাকৃত পাপ এবং এক অন্ধ মুনি দম্পতির অভিশাপ।

ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ:

অন্ধ মুনিপুত্রের হত্যাকাণ্ড

রাজা দশরথ শব্দভেদী বাণ ছুঁড়তে পারতেন—অর্থাৎ, শব্দ শুনেই নিশানা ভেদ করতে পারতেন। এক রাতে তরুণ দশরথ অযোধ্যার বনে শিকার করছিলেন। সেই সময় অন্ধ মুনি দম্পতির একমাত্র পুত্র শ্রবণ কুমার তাঁর অন্ধ পিতা-মাতার তৃষ্ণা মেটানোর জন্য একটি পাত্রে নদী থেকে জল ভরছিলেন।

জল ভরার সময় যে "বড় বড়" শব্দ হচ্ছিল, রাজা দশরথ দূর থেকে ভাবেন কোনো বন্য হাতি বা হিংস্র পশূ জল খাচ্ছে। তিনি শব্দ লক্ষ্য করে তাঁর শব্দভেদী বাণ ছুঁড়ে দেন। কিন্তু কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান যে কোনো পশু নয়, বরং একটি তরুণ তপস্বী তাঁর বাণে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন। মৃত্যুর আগে শ্রবণ কুমার দশরথকে অনুরোধ করেন তাঁর অন্ধ পিতা-মাতাকে জল খাইয়ে আসতে।

মুনি দম্পতির অভিশাপ

তীব্র অনুশোচনা নিয়ে রাজা দশরথ জল নিয়ে সেই অন্ধ মুনি দম্পতির কাছে যান এবং কম্পিত কণ্ঠে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। একমাত্র পুত্রের মৃত্যুর খবর শুনে বৃদ্ধ মুনি-পত্নী ও মুনি শোকে ভেঙে পড়েন।

চিতা জ্বলার আগে শোকগ্রস্ত অন্ধ মুনি রাজা দশরথকে অভিশাপ দিয়ে বলেন:

"তুমি যেভাবে আজ আমাদের পুত্রশোকে মারলে, ঠিক একইভাবে তোমাকেও জীবনের শেষ সময়ে তীব্র পুত্রশোকে কাতর হয়ে প্রাণ হারাতে হবে।"

এরপর সেই মুনি দম্পতিও পুত্রশোকেই প্রাণ বিসর্জন দেন।

অভিশাপের ফল

বহু বছর পর, যখন রাজা দশরথ বৃদ্ধ হন, তখন তাঁর প্রিয় পুত্র রামচন্দ্রকে কৈকেয়ীর বরদানের কারণে ১৪ বছরের জন্য বনে যেতে হয়। রামের বিচ্ছেদের তীব্র যন্ত্রণা ও শোক সহ্য করতে না পেরে রাজা দশরথ অবিকল সেই মুনির অভিশাপ অনুসারেই "হা রাম, হা রাম" করতে করতে প্রাণত্যাগ করেন।

হিন্দু ধর্মে এই ঘটনাটিকে "কর্মফল"-এর একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়—যেখানে স্বয়ং রাজাকেও তাঁর অতীতের ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল।