সনাতন ধর্মের গ্রন্থ অনুযায়ী মানুষের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো — পরমেশ্বরকে জানা, তাঁর প্রতি ভক্তি অর্জন করা এবং জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করা।
বিশেষভাবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম ও উপনিষদে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
শাস্ত্র অনুযায়ী জীবনের উদ্দেশ্য
১. ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-এ শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন
“সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ।”
(গীতা ১৮.৬৬)
অর্থাৎ, সবকিছু ত্যাগ করে ঈশ্বরের শরণ গ্রহণ করাই মানুষের চূড়ান্ত পথ।
২. আত্মাকে শুদ্ধ করা
সনাতন ধর্ম বলে মানুষ শুধু দেহ নয়, তার ভিতরে অমর আত্মা আছে।
দেহ নষ্ট হয়, কিন্তু আত্মা চিরন্তন।
গীতায় বলা হয়েছে
“ন জায়তে ম্রিয়তে বা কদাচিত্।”
(গীতা ২.২০)
অর্থাৎ আত্মার কখনও জন্ম বা মৃত্যু নেই।
তাই জীবনের উদ্দেশ্য শুধু ভোগ-বিলাস নয়; আত্মার উন্নতি করাও প্রধান লক্ষ্য।
৩. ভক্তিযোগ ও ঈশ্বরপ্রেম অর্জন
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন
“মন মানা ভব মদ্ভক্তো।”
(গীতা ৯.৩৪)
অর্থাৎ মনকে ঈশ্বরে স্থির করা ও ভক্তি করাই শ্রেষ্ঠ পথ।
সনাতন ধর্মে মনে করা হয়, সত্যিকারের শান্তি অর্থ, সম্পদ বা খ্যাতিতে নয় — ঈশ্বরভক্তিতে।
৪. মোক্ষ লাভ করা
মোক্ষ মানে জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি।
এটাই সনাতন ধর্মে জীবনের সর্বোচ্চ লক্ষ্য বলে ধরা হয়।
উপনিষদ-এ বলা হয়েছে
“অসতো মা সদ্গময়, তমসো মা জ্যোতির্গময়।”
অর্থাৎ অসত্য থেকে সত্যের দিকে এবং অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়াই জীবনের পথ।
সংক্ষেপে
সনাতন ধর্ম অনুযায়ী জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো—
ঈশ্বরকে জানা
ধর্মময় জীবন যাপন করা
আত্মাকে শুদ্ধ করা
ভক্তি ও প্রেম অর্জন করা
এবং শেষ পর্যন্ত মোক্ষ লাভ করা
এ কারণেই সনাতন ধর্মে বলা হয়
“মানবজন্ম ঈশ্বরপ্রাপ্তির জন্য।”


