হিন্দু দর্শন ও সনাতন ধর্মগ্রন্থ (বিশেষ করে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা)-এর ভিত্তি অনুযায়ী আত্মা অমর, কারণ আত্মা কোনো ভৌতিক বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি নয়। এটি পরমাত্মা বা ভগবানের এক অবিনাশী অণু অংশ।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার অমরত্বের মূল কারণগুলো খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
পদার্থের অতীত (অবিনাশী প্রকৃতি): আত্মা হলো চেতনাস্বরূপ। এটি জড় বস্তুর মতো পরিবর্তনশীল বা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার বিষয় নয়। গীতার মতে, আত্মা কখনো জন্মগ্রহণ করে না এবং এর কখনো মৃত্যুও হয় না।
ভৌত উপাদানের প্রভাবমুক্ত: পঞ্চভূত (মাটি, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ) দ্বারা আত্মা প্রভাবিত হয় না। শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন:
"নৈনং ছিন্দন্তি শাস্ত্রাণি নৈনং দহতি পাবকঃ।
ন চৈনং ক্লেদয়ন্ত্যাপো ন শোষয়তি মারুতঃ॥"
(অর্থাৎ: অস্ত্র আত্মাকে ছেদন করতে পারে না, আগুন একে দগ্ধ করতে পারে না, জল একে ভিজাতে পারে না এবং বাতাস একে শুষ্ক করতে পারে না।)
দেহের পরিবর্তন বনাম আত্মার অবিকৃতি: আমরা আমাদের জীবনে দেখি দেহ শৈশব থেকে কৈশোর, যৌবন এবং বার্ধক্যে রূপ নেয়। দেহ পরিবর্তনশীল ও নশ্বর, কিন্তু দেহের ভেতরের 'আমি' বা চেতনা একই থাকে। বস্ত্র পুরোনো হলে মানুষ যেমন তা বদলে নতুন বস্ত্র পরিধান করে, আত্মাও তেমনি জীর্ণ দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে মাত্র (পুনর্জন্ম)।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আত্মা হলো নিত্য, চিরন্তন, স্বয়ংপ্রকাশিত এবং অবিনাশী। দেহের ধ্বংস হলেও আত্মার বিনাশ হয় না বলেই আত্মাকে অমর বলা হয়।


