হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী প্রতিটি কর্মের ফল (ভালো বা মন্দ) জীবকে ভোগ করতেই হয়। কর্মফলই জীবকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে (সংসারে) বাঁধে। শাস্ত্র অনুসারে এই কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রধান উপায়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. নিষ্কাম কর্মযোগ (ফলের আশা ত্যাগ):
श्रीमद्भगवद्गीता (৩.৯) অনুযায়ী, ফলের আশা রেখে কাজ করলে কর্মের জন্ম হয় এবং তা নতুন বন্ধন তৈরি করে। যখন কোনো ব্যক্তি কর্তব্যের খাতিরে বা অনাসক্ত হয়ে কোনো কাজের ফলের প্রতি লোভ না রেখে কাজ করেন (নিষ্কাম কর্ম), তখন নতুন কোনো কর্মফল বা পাপ-পুণ্য তাঁর আত্মাকে স্পর্শ করে না।
২. আত্মজ্ঞান বা জ্ঞানযোগ (জ্ঞানাঘ্নিতে কর্ম ভস্ম):
গীতার ৪র্থ অধ্যায়ে (শ্লোক ৩৭) শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন— "জ্ঞানা his দ্ধঃ সর্বকর্মণি ভস্মসাৎ কুরুতে তথা"। অর্থাৎ, প্রজ্জ্বলিত অগ্নি যেমন কাষ্ঠকে ভস্ম করে দেয়, তেমনই আত্মজ্ঞান বা ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হলে অতীতের সমস্ত জমা হওয়া সংস্কার ও 'সঞ্চিত কর্ম' ভস্মীভূত হয়ে যায়। নিজের প্রকৃত সত্তা (আত্মা) সম্পর্কে বোধ জাগ্রত হওয়াই কর্মমুক্তির চূড়ান্ত উপায়।
৩. ভক্তিযোগ ও ঈশ্বরপ্রণিধান (আত্মসমর্পণ):
ঈশ্বর বা পরমাত্মার কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করলে তিনি ভক্তকে সমস্ত পাপ ও কর্মের বন্ধন থেকে মুক্ত করেন। গীতায় বলা হয়েছে, সমস্ত কর্মের ফল ঈশ্বরকে অর্পণ করে কাজ করলে ব্যক্তি পদ্মপাতার জলের মতো নিষ্পাপ থাকে।
৪. প্রায়শ্চিত্ত ও সাধনা (সঞ্চিত কর্মের ক্ষয়):
'প্রারব্ধ কর্ম' (যা এই জন্মে ভোগ করা শুরু হয়েছে) তা ভোগের মাধ্যমেই শেষ করতে হয়। তবে মনকে পরিশুদ্ধ করা এবং পূর্বের মন্দ কাজের প্রভাব কমানোর জন্য শাস্ত্রে তপস্যা, নামজপ, ধ্যান, সততা, এবং নিঃস্বার্থ দান-সেবার (দাতব্য কর্ম) বিধান রয়েছে।
সংক্ষেপে ৩টি কর্মের স্থিতি:
১. সঞ্চিত কর্ম: অতীতে জমা হওয়া কর্ম (জ্ঞানে ভস্ম হয়)।
২. প্রারব্ধ কর্ম: যে কর্মের ফল এখন ভোগ করা হচ্ছে (ভোগের মাধ্যমেই শেষ হয়)।
৩. ক্রিয়মাণ কর্ম: যা এখন করা হচ্ছে (নিষ্কাম ভাবের মাধ্যমে এর বন্ধন আটকানো যায়)।


