হিন্দু পুরাণ মতে, আজকের এই পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে মহর্ষি বেদব্যাস মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।অক্ষয় তৃতীয়া ও মহাভারত রচনার ইতিহাস
হিন্দু পুরাণ ও শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই পুণ্য তিথিতেই মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস মহাভারত রচনার শুভ সূচনা করেছিলেন।
১. রচনার প্রেক্ষাপট
মহর্ষি বেদব্যাস যখন মহাভারতের বিশাল আখ্যানটি মনে মনে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি এটি লিপিবদ্ধ করার জন্য একজন দক্ষ লেখকের প্রয়োজন অনুভব করেন। তিনি শ্রীগণেশকে এই মহাকাব্যটি লেখার জন্য অনুরোধ জানান।
২. গণেশের শর্ত
গণেশ রাজি হলেন, তবে তিনি একটি কঠিন শর্ত দিলেন:
"আমি লিখতে বসলে আমার কলম এক মুহূর্তের জন্যও থামানো যাবে না। আপনি যদি বিরতি নেন, তবে আমি লেখা বন্ধ করে দেব।"
৩. ব্যাসদেবের পাল্টা শর্ত
ব্যাসদেব জানতেন গণেশ অত্যন্ত মেধাবী এবং দ্রুতগতিতে লিখতে সক্ষম। তাই তিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে পাল্টা একটি শর্ত দিলেন:
"আপনি অবশ্যই লিখবেন, কিন্তু প্রতিটি শ্লোকের গূঢ় অর্থ সম্পূর্ণ বুঝতে পেরে তবেই তা লিপিবদ্ধ করবেন।"
৪. সমন্বয় ও সমাপ্তি
ব্যাসদেব মাঝে মাঝে অত্যন্ত জটিল ও কঠিন কিছু শ্লোক বলতেন, যার অর্থ বুঝতে গণেশের কিছুটা সময় লাগত। সেই ফাঁকে ব্যাসদেব পরবর্তী শ্লোকগুলো মনে মনে গুছিয়ে নিতেন। এইভাবেই অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু হওয়া এই মহতী কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
অক্ষয় তৃতীয়ার অন্যান্য গুরুত্ব:
সত্য যুগের শুরু: প্রচলিত আছে যে, এই দিনেই সত্য যুগের সমাপ্তি এবং ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল।
গঙ্গার মর্ত্যে আগমন: দেবী গঙ্গা এই বিশেষ তিথিতেই স্বর্গ থেকে মর্ত্যে অবতরণ করেছিলেন।
অন্নপূর্ণার আশীর্বাদ: এই দিনে অন্নপূর্ণা দেবী আবির্ভূত হয়েছিলেন।
এই তিথিতে কোনো কাজ শুরু করলে তা 'অক্ষয়' বা চিরস্থায়ী হয় বলে বিশ্বাস করা হয়, তাই একে কেন্দ্র করেই ব্যাসদেব মহাভারতের মতো অমর কাব্য শুরু করেছিলেন।


