রামকে কেনো পুরুষোত্তম বলা হয়?
1 answers
10 views
Uzzwal Dhali
Eva Dhali
Prantika Mistry
+4
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

রামায়ণ অনুসারে শ্রীরামচন্দ্রকে 'মর্যাদা পুরুষোত্তম' বলা হয়। 'পুরুষোত্তম' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাওয়া যায় পুরুষ + উত্তম, অর্থাৎ পুরুষদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ। তাঁকে এই বিশেষণে ভূষিত করার পেছনে গভীর আধ্যাত্মিক ও নৈতিক কারণ রয়েছে:

১. আদর্শের মূর্ত প্রতীক

রাম কেবল একজন রাজা বা যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি একাধারে আদর্শ পুত্র, আদর্শ ভাই, আদর্শ স্বামী এবং আদর্শ রাজা (রামরাজ্য)। কোনো অবস্থাতেই তিনি নিজের নীতি ও নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হননি।

২. পিতৃসত্য পালন

রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও পিতার দেওয়া সামান্য এক প্রতিশ্রুতির মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি রাজসুখ ত্যাগ করে ১৪ বছরের জন্য বনবাসে গিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে কর্তব্যের প্রতি তাঁর এই অবিচল নিষ্ঠা তাঁকে অনন্য উচ্চতা দিয়েছে।

৩. ন্যায় ও ধর্মের শাসন

রামের শাসনকাল বা 'রামরাজ্য' ন্যায়বিচারের জন্য প্রসিদ্ধ। তিনি নিজের প্রজাদের সুখের জন্য ব্যক্তিগত জীবনের সুখ এমনকি প্রিয়তমা পত্নী সীতাকেও ত্যাগ করতে দ্বিধা করেননি। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, একজন শাসকের কাছে নিজের আবেগ বা সম্পর্কের চেয়ে রাজধর্ম এবং প্রজাদের প্রতি দায়বদ্ধতা বড়।

৪. ধৈর্য ও সংযম

রাবণের মতো শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময়ও রাম কখনো অধৈর্য বা অসংযমী হননি। সীতা হরণের পর গভীর শোকেও তিনি বিচলিত না হয়ে ধর্মের পথে থেকে মিত্র সংগ্রহ করেছেন এবং যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। এমনকি রাবণের মৃত্যুর পর তাকেও সম্মান প্রদর্শন করতে ভুলেননি।

৫. মানবিক সীমাবদ্ধতায় দেবত্ব

শ্রীরামচন্দ্রকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার মনে করা হলেও, তিনি পৃথিবীতে একজন সাধারণ মানুষের মতো দুঃখ-বেদনা, বিরহ এবং সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন। একজন মানুষ হিসেবে সর্বোচ্চ নৈতিকতা বজায় রেখে কীভাবে জীবন কাটানো সম্ভব, তিনি তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেই তাঁকে 'পুরুষোত্তম' বলা হয়।


সংক্ষেপে: রাম তাঁর জীবন দিয়ে শিখিয়েছেন যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কীভাবে সত্য, ধর্ম এবং মর্যাদা রক্ষা করতে হয়। নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করার এই গুণাবলির কারণেই তিনি পুরুষোত্তম।

Uzzwal Dhali
+1