'অজ্ঞাতবাস' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো গোপন বসবাস বা পরিচয় লুকিয়ে থাকা। সনাতন ধর্মীয় মহাকাব্য মহাভারতে এই শব্দটির প্রয়োগ সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে পাণ্ডবদের বারো বছর বনবাস এবং এক বছর অজ্ঞাতবাসের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। অজ্ঞাতবাসের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
পরিচয় গোপন রাখা: এই এক বছর পাণ্ডবদের এমনভাবে থাকতে হতো যাতে কেউ তাঁদের চিনতে না পারে। যদি এই সময়ের মধ্যে তাঁদের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেয়ে যেত, তবে শর্তানুসারে তাঁদের আবারও বারো বছরের জন্য বনবাসে যেতে হতো।
বিরাট রাজ্যে ছদ্মবেশ: পাণ্ডবরা তাঁদের এই অজ্ঞাতবাস কাটিয়েছিলেন মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের প্রাসাদে। প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মবেশ ও ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন:
যুধিষ্ঠির: 'কঙ্ক' নামে বিরাটের সভাসদ ও পাশা খেলার সঙ্গী হিসেবে।
ভীম: 'বল্লভ' নামে প্রধান পাচক বা রাঁধুনি হিসেবে।
অর্জুন: 'বৃহন্নলা' নামে রাজকুমারী উত্তরাকে নাচ-গান শেখানোর শিক্ষক হিসেবে।
নকুল: 'গ্রন্থিক' নামে অশ্বশালা বা ঘোড়ার দেখাশোনার কাজে।
সহদেব: 'তন্তিপাল' নামে গবাদি পশুর তদারকিতে।
দ্রৌপদী: 'সৈরিন্ধ্রী' ছদ্মনামে রানী সুদেষ্ণার কেশবিন্যাসকারিনী বা পরিচারিকা হিসেবে।
সহজ কথায়, অজ্ঞাতবাস হলো এমন একটি কঠিন সময় যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে শাস্তি বা কৌশলের অংশ হিসেবে নিজের আসল নাম, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে থাকতে হয়।


