এই প্রশ্নটি মানবজীবনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নগুলোর একটি।
হিন্দু শাস্ত্র মতে — এক্ষেত্রে ঈশ্বর ও মানুষ উভয়ই ভূমিকা রাখেন, কিন্তু সেই ভূমিকা আলাদা।
🔹 ঈশ্বর কী করেন?
ঈশ্বর হচ্ছেন নিয়মদাতা ও শক্তিদাতা।
তিনি সৃষ্টি করেছেন প্রকৃতির নিয়ম, কর্মফলের বিধান ও বিবেক।
গীতায় অষ্টাদশ অধ্যায়ের ৬১ নং শ্লোকে বলা হয়েছে —
“ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশে অর্জুন তিষ্ঠতি”
(গীতা ১৮.৬১)
ঈশ্বর সকল জীবের হৃদয়ে অবস্থান করেন।
কিন্তু এখানেই তিনি থেমে যান —
তিনি কোনো কাজ করতে বাধ্য করেন না।
🔹 মানুষ কী করে?
মানুষের হাতে দেওয়া হয়েছে —
চিন্তা করার স্বাধীনতা
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
কর্ম করার অধিকার
গীতায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে —
“উদ্ধরেত্ আত্মনাত্মানং” (৬.৫)
মানুষ নিজেই নিজের উন্নতি বা পতনের কারণ।
অর্থাৎ, ঈশ্বর পথ দেখান,
কিন্তু পথে হাঁটবে মানুষ নিজেই।
🔹 তাহলে কর্মফল কার দায়িত্ব?
পুরোপুরি মানুষের।
ঈশ্বর ফল দেন না পক্ষপাত করে,
তিনি দেন কর্মের স্বাভাবিক ফল।
যেমন —
আগুনে হাত দিলে পুড়ে যাবে,
এটা শাস্তি নয়—এটা নিয়ম।
🔹 সহজ করে বললে—
ঈশ্বর = শিক্ষক
মানুষ = ছাত্র
জীবন = পরীক্ষা
শিক্ষক প্রশ্ন দেন, কিন্তু উত্তর লেখে ছাত্রই।


