ভীষ্মদেব কেন শরশয্যায় শায়িত ছিলেন—এর কারণ মহাভারতের এক অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বেদনাময় অধ্যায়।
প্রধান কারণ
ইচ্ছামৃত্যুর বর ভীষ্মদেব (দেবব্রত) তাঁর পিতা শান্তনুর কাছ থেকে
ইচ্ছামৃত্যুর বর পেয়েছিলেন।
তাই তিনি যতক্ষণ ইচ্ছা জীবন ধারণ করতে পারতেন।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে গুরুতর আহত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে
অর্জুন শিখণ্ডীকে সামনে রেখে
একসাথে অসংখ্য বাণ নিক্ষেপ করেন
ভীষ্মদেবের দেহে।
পৃথিবীতে পড়ে যাওয়া কিন্তু মৃত্যু না হওয়া শরীর ভেদ করে যাওয়া অসংখ্য তীর মাটিতে পড়তে দেয়নি—
সেই তীরগুলোই তৈরি করেছিল শরশয্যা (তীরের শয্যা)।
কেন তখনই মৃত্যু হলো না?
ভীষ্মদেব চেয়েছিলেন
উত্তরায়ণের পবিত্র সময়ে দেহত্যাগ করতে।
তাই ইচ্ছামৃত্যুর বর অনুযায়ী
তিনি শরশয্যায় শুয়ে থেকে
উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করেন।
নৈতিক ও দার্শনিক তাৎপর্য
কর্তব্যপরায়ণতা ও ত্যাগের চরম দৃষ্টান্ত
ধর্মের জটিলতা—অধর্মের পক্ষে দাঁড়িয়েও
অন্তরে ধর্মবোধ অটুট রাখা
জীবন ও মৃত্যুর উপর আত্মসংযম
সংক্ষিপ্ত উত্তর (পরীক্ষার জন্য)
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে গুরুতরভাবে আহত হলেও ইচ্ছামৃত্যুর বর থাকার কারণে ভীষ্মদেব তৎক্ষণাৎ মারা যাননি; উত্তরায়ণের অপেক্ষায় তিনি তীরের তৈরি শরশয্যায় শায়িত ছিলেন।


