গান্ধারীর একশত পুত্রের মৃত্যুর কারণকে পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী প্রধানত তিনটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হয় —
পূর্বজন্মের কর্মফল: প্রচলিত লোকগাথা ও কিছু পুরাণ অনুযায়ী, গান্ধারী তাঁর পূর্বজন্মে খেলার ছলে ১০০টি ফড়িংকে সূচ দিয়ে গেঁথে মেরেছিলেন। অন্য একটি মতে, তিনি অজান্তে একটি পাথরের ওপর বসে পড়েছিলেন যার নিচে ১০০টি কচ্ছপের ডিম ছিল এবং সেগুলো ভেঙে গিয়েছিল। সেই পাপের কারণেই তাঁকে নিজের জীবদ্দশায় শতপুত্রের মৃত্যু দেখতে হয়েছিল।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ও অধর্মের পথ: মহাভারতের মূল কাহিনী অনুসারে, গান্ধারীর জ্যেষ্ঠ পুত্র দুর্যোধন ও তাঁর ভাইয়েরা ক্রমাগত অন্যায় ও অধর্মের পথে চলেছিলেন। পাণ্ডবদের সাথে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভীমের হাতে দুর্যোধনসহ সব ভাইয়ের মৃত্যু হয়। দুর্যোধনের জন্মের সময় অশুভ লক্ষণ দেখে বিদুর ও অন্যান্য মুনিরা তাকে ত্যাগ করার পরামর্শ দিলেও ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারী তা শোনেননি, যা পরিণামে ধ্বংস ডেকে আনে।
ধৃতরাষ্ট্রের পূর্বজন্মের অভিশাপ: শ্রীকৃষ্ণ ধৃতরাষ্ট্রকে বুঝিয়েছিলেন যে, তিনিও তাঁর পূর্বজন্মে একটি পাখির ১০০টি ছানাকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। সেই কর্মফলের শাস্তি হিসেবে ধৃতরাষ্ট্রকে অন্ধ হতে হয় এবং এক জন্মে ১০০টি সন্তান লাভের পুণ্য অর্জনের পর অন্য জন্মে তাদের মৃত্যুর শোক সইতে হয়।
গান্ধারী বিশ্বাস করতেন শ্রীকৃষ্ণ ইচ্ছা করলেই এই যুদ্ধ এবং তাঁর পুত্রদের মৃত্যু থামাতে পারতেন, তাই শোকাতুর হয়ে তিনি কৃষ্ণকেও অভিশাপ দিয়েছিলেন।


