Saikat SahaVerified
September 13, 2025
গীতায় নিষ্কাম কর্ম করতে বলা হলেও বিভিন্ন কাজের বিভিন্ন ফলের কথা কেনো বলা হয়েছে?
1 answers
20 views
Uzzwal Dhali
ঋষভ
Asish Biswas
+5
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer
Asish BiswasVerified
September 13, 2025

আপনার প্রশ্নটি গভীর ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 🙏

১. গীতার মূল শিক্ষা — নিষ্কাম কর্ম

শ্রীমদ্ভগবদ্‌গীতায় বারবার শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—

কর্ম করতে হবে, কিন্তু ফলের প্রতি আসক্তি রাখা যাবে না। অর্থাৎ—

কর্তব্য পালন করা → হ্যাঁ।

ফল ভোগ করার বাসনা রাখা → না।

এটাই নিষ্কাম কর্ম। এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ভগবানের প্রতি নিবেদিত করে তোলা, সংসারবন্ধন থেকে মুক্তি দেওয়া।

২. মাহাত্ম্যে ফল উল্লেখ করার কারণ

বিভিন্ন শাস্ত্রে, বিশেষ করে গীতা মাহাত্ম্য, পুরাণসমূহে আমরা দেখি—

“এই শ্লোক পাঠ করলে এত ফল, এত লোক, এত পুণ্য প্রাপ্ত হবে।”

👉 আসলে এগুলো দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ও ভক্তি জাগানোর জন্য।

কারণ—

সবাই একসাথে নিষ্কাম ভক্তির উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য শাস্ত্রে “ফল” বা “লোক” এর কথা বলা হয়।

ধীরে ধীরে সেই ফলপ্রত্যাশী ভক্ত ফল ত্যাগ করে শুধুমাত্র ভগবানের প্রেমে শাস্ত্র পাঠ করতে শিখে যায়।

৩. উদাহরণ

যেমন—একটি শিশুকে পড়াশোনা শেখাতে প্রথমে তাকে চকোলেট বা পুরস্কার দিয়ে আগ্রহী করা হয়। কিন্তু বড় হওয়ার পর সে আর চকোলেটের জন্য পড়ে না, জ্ঞানের জন্য পড়ে।

তেমনি, প্রথমে শাস্ত্রে “ফল” দেখানো হয় → পরে ভক্ত নিষ্কাম হয়ে যায়।

৪. গীতার মাহাত্ম্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য

গীতা পড়া ও শোনা ভক্তিকে বৃদ্ধি করে।

লোক বা ফলের কথা আসলে একধরনের প্রেরণা।

আসল লক্ষ্য হলো ভগবানের প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি এবং জন্মমৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া।

✅ সারসংক্ষেপ:

গীতায় শিক্ষা দেওয়া হয়েছে নিষ্কাম কর্মযোগ। আর মাহাত্ম্যে শ্লোকপাঠে যে “লোক” বা “ফল” এর কথা বলা হয়েছে, তা আসলে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার উপায়। যখন ভক্ত ধীরে ধীরে উচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়, তখন সে ফলপ্রত্যাশা না করে কেবল ভগবানের প্রেমেই গীতা পাঠ করে।