একাদশী ভঙ্গের ফল শাস্ত্রে কঠোরভাবে বর্ণিত আছে। কারণ একাদশীকে বলা হয় “পাপমোচনী” ও “মোক্ষদায়িনী”। তাই এর ভঙ্গ করলে উল্টো পাপফল ভোগ করতে হয়।
📖 শাস্ত্রীয় বর্ণনা
পদ্মপুরাণ বলছে –
যে ব্যক্তি একাদশীতে শস্য (অন্ন, ডাল, চাল, গম ইত্যাদি) খায়, সে গোমাংস ভক্ষণের পাপ অর্জন করে।
একাদশী ভঙ্গের পাপে বহু জন্ম দুঃখ ভোগ করতে হয়।
ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ বলছে –
একাদশী না মানলে তার উপার্জিত ধর্মকর্মের ফল নষ্ট হয়ে যায়।
হরিভক্তি-সুধোদয় গ্রন্থে আছে –
যে ব্যক্তি একাদশী পালন করে না, সে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ খায়।
ভগবান বলেন, “আমার ভক্ত হলেও যদি একাদশী ভঙ্গ করে, তবে আমি তাতে সন্তুষ্ট হই না।”
🌼 ভঙ্গের ফল
অসংখ্য জন্ম দুঃখ-ক্লেশ ভোগ করতে হয়।
স্বর্গলাভ হয় না।
পূর্বে সঞ্চিত পুণ্য ধ্বংস হয়।
পাপ বৃদ্ধি পায়, বিশেষত মিথ্যা বলা, গরু হত্যা, গুরু নিন্দার সমান পাপ হয়।
🌸 তবে মুক্তির উপায়
যদি কেউ ভুলে একাদশী ভঙ্গ করে ফেলেন, তাহলে —
ভগবানের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
পরের একাদশী কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
নাম-সংকীর্তন ও দান করতে হবে।
👉 অর্থাৎ, একাদশী ভঙ্গ করলে ভয়াবহ পাপফল হয়, কিন্তু আন্তরিক ভক্তি ও পুনরায় ব্রত পালনের দ্বারা সেই পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


