🌸বৈকুণ্ঠ একাদশী (Vaikuntha Ekadashi) হলো দক্ষিণ ভারতে বিশেষভাবে পালিত একটি অতি পবিত্র একাদশী।
📖 অর্থ ও মাহাত্ম্য
"বৈকুণ্ঠ" মানে ভগবান বিষ্ণুর ধাম (স্বর্গেরও ঊর্ধ্বে তাঁর নিত্যলোক)।
এই দিনে উপবাস, ভজন, দান করলে বৈকুণ্ঠ-প্রাপ্তি হয় বলে পদ্মপুরাণ ও ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে বর্ণিত আছে।
এটি মোক্ষ প্রদানকারী একাদশী নামে খ্যাত।
🗓️ কোন দিনে পড়ে?
বৈকুণ্ঠ একাদশী মূলত মার্গশীর্ষ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী (ডিসেম্বর–জানুয়ারি মাসে) পালন করা হয়।
দক্ষিণ ভারতে বিশেষভাবে তিরুপতি, শ্রীরঙ্গম, আন্নামালাই, কুড্ডাল আজনেয়া মন্দিরে মহোৎসব হয়।
🙏 বৈকুণ্ঠ দ্বার
দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরগুলোতে এই দিনে একটি বিশেষ দরজা খোলা হয়, যাকে বলে “বৈকুণ্ঠ দ্বার” বা স্বর্গদ্বার।
বিশ্বাস করা হয়, এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে মানুষ বৈকুণ্ঠলোক প্রাপ্ত হন।
হাজার হাজার ভক্ত এই দিনে সারারাত ভজন-সঙ্কীর্তন করে, এবং ভোরে বৈকুণ্ঠ দরজা দিয়ে প্রবেশ করে।
🌼 আচার
উপবাস রাখা বা ফলাহার করা।
বিষ্ণু-সহস্রনাম জপ করা।
মন্দিরে ভজন, নাম-সংকীর্তন করা।
দরিদ্র ও ভক্তদের দান করা।
রাত জেগে ভগবানকে স্মরণ করা।
✨ ফল
বৈকুণ্ঠ একাদশী পালনে জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি মেলে।
শাস্ত্রে বলা হয়—
“যে ভক্ত বৈকুণ্ঠ একাদশী ভক্তিভরে পালন করে, সে সরাসরি বৈকুণ্ঠলোকে গমন করে।”


