দ্রৌপদী পাঁচজন স্বামী গ্রহণ করেও সতী হিসেবে পরিচিত — এটি অনেকের মনে প্রশ্ন জাগায়। কিন্তু শাস্ত্র ও পুরাণসমূহে দ্রৌপদীর সতীত্বের বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিচে এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হল:
🔱 দ্রৌপদীর বহু স্বামী গ্রহণ: ঘটনা ও কারণ
দ্রৌপদী কেবলমাত্র নিজের ইচ্ছায় পাঁচ স্বামী গ্রহণ করেননি। এটি ছিল এক ঈশ্বরিক বিধান:
পূর্বজন্মে দ্রৌপদী এক ঋষিপত্নী ছিলেন, যিনি ভগবান শিবের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন তিনি একজন সর্বগুণসম্পন্ন স্বামী পান।
শিব তাকে আশীর্বাদ করেন: "তোমার প্রার্থনা এত গভীর যে তুমি এক স্বামীর মধ্যে সব গুণ না পেয়ে পাঁচ স্বামী পাবে।"
তাই, দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামী ছিলেন — যুধিষ্ঠির (ধর্ম), ভীম (বল), অর্জুন (শৌর্য), নকুল (রূপ), সহদেব (জ্ঞানে শ্রেষ্ঠ) — প্রতিটি আলাদা গুণের প্রতিনিধিত্ব করে।
🌺 সতীত্ব মানে কি শুধু এক স্বামী?
না। সতীত্ব মানে স্বামীর প্রতি নিঃস্বার্থ, একনিষ্ঠ প্রেম ও সেবা, কাজেই:
দ্রৌপদী একসঙ্গে পাঁচজনকে স্ত্রীসেবা করেননি, বরং নিয়ম ছিল এক বছর করে প্রতিজন স্বামীর সেবা — অন্য সময় তিনি ব্রহ্মচারিণী থাকতেন।
যখন যে স্বামীর সঙ্গে ছিলেন, তাঁর প্রতিই একনিষ্ঠ ছিলেন, অন্যদের বেলায় বোনের মতো আচরণ করতেন।
📖 শাস্ত্র কী বলে?
মনু সংহিতা 9.45 – "একজন নারীর পক্ষে একাধিক স্বামী গ্রহণ নিন্দনীয়", কিন্তু এর ব্যতিক্রম আছে ঈশ্বর কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষেত্রে।
দ্রৌপদীকে ‘পঞ্চসতী’-র মধ্যে অন্যতম ধরা হয়:
"আহল্যা, দ্রৌপদী, কুন্তী, তারা, মন্দোদরী চ।
পঞ্চকন্যা স্মরেন্নিত্যং মহাপাতকনাশনম্॥"
🌟 দ্রৌপদীর সতীত্বের প্রমাণ
মহাভারতের বনপর্বে যক্ষ যখন যুধিষ্ঠিরকে প্রশ্ন করে — "তোমার পত্নী কি সতী?"
যুধিষ্ঠির জবাব দেন — "হ্যাঁ, দ্রৌপদী সতী।"
এরপর যক্ষ সন্তুষ্ট হয়ে তাঁদের জীবন দান করেন।আগ্নিপরীক্ষা নয়, কিন্তু দ্রৌপদীর সতীত্ব বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়।
🕊️ উপসংহার
দ্রৌপদী সতী কারণ:
তাঁর চরিত্র বিশুদ্ধ ছিল।
তিনি একান্তভাবে, সময় অনুযায়ী প্রতিটি স্বামীর প্রতিই নিষ্ঠা বজায় রেখেছিলেন।
তাঁর এই আচরণ ছিল ঈশ্বর নির্ধারিত ও শাস্ত্রসম্মত।
প্রকৃত সতীত্ব বাহ্যিক অবস্থার চেয়ে অভ্যন্তরীন নিষ্ঠা ও আচারনির্ভর। দ্রৌপদী সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।


