রথযাত্রা কেনো করা হয়?
1 answers
32 views
Dipankar Kha
Uzzwal Dhali
+2
Answer
Login

আরও পড়ুন ...

1 Answer

★ছোটো বেলায় প্রথম শুনি রথযাত্রা। কয়েক বছর পর শুনলাম জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। কিন্তু জগন্নাথদেবটা আসলে কে ? মনে আরো প্রশ্ন জাগে, অনেক দেবতার তো পূজা গ্রামে গঞ্জে হয়, কিন্তু জগন্নাথ দেব এর পূজা তো কখনো হতে দেখি নি, তাহলে এই জগন্নাথদেব কে ? তাছাড়াও এই জগন্নাথ দেবের সাথে যারা রয়েছে, তাদের মূর্তিও অদ্ভূত, এর ই বা কারণ কী ? এই সব প্রশ্নের উত্তর কেউ বলে দেয় নি; কারণ হিন্দু সমাজে, পরগাছার মতো সাধু-সন্ন্যাসী-

মহারাজদের অভাব না থাকলেও হিন্দুধর্মের তত্ত্ব, হিন্দুদেরকে শেখানোর লোকের বড়ই অভাব, তাই হয়তো আমি জানতে পারি নি। আমার মনে হয়, অনেক হিন্দুরই আমার মতো অবস্থা।

পরে শুনলাম বা বুঝলাম, জগন্নাথ দেব এর বোন সুভদ্রা এবং ভাই বলরাম, এই তিন জনকেই রথে টানা হয় বা এই তিনজনকে নিয়েই আসলে রথযাত্রা। এরপর যখন মহাভারতের জ্ঞান মাথায় ঢুকলো, তখন বুঝলাম, সুভদ্রা আসলে শ্রীকৃষ্ণের বোন এবং বলরাম শ্রীকৃষ্ণের বড় ভাই, তখন মনে হলো, আরে, জগন্নাথ দেব তো শ্রীকৃষ্ণ; এজন্যই জগন্নাথদেবের মূর্তিট কালো। এই জগন্নাথ বা শ্রীকৃষ্ণই যে জগতের প্রভু, যে কথা বলা আছে গীতার ৯/১৭ নং শ্লোকে, দেখে নিন সেই শ্লোক এবং তার অর্থ :

“পিতাহমস্য জগতো মাতা ধাতা পিতামহঃ।

বেদ্যং পবিত্রম্ ওঙ্কার ঋক্ সাম যজুবের চ।।”

এর অর্থ : আমিই এই জগতের পিতা মাতা, বিধাতা ও পিতামহ। আমি জ্ঞেয় বস্তু, শোধনকারী ও ওঙ্কার। আমিই ঋক, সাম ও যজুর্বেদ।

এছাড়াও জগন্নাথ মানে যে জগতের প্রভু, সেটাও কিন্তু বলা আছে জগন্নাথ শব্দের মধ্যেই; কেননা, জগন্নাথ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হলো = জগৎ+নাথ, এখানে নাথ মানে হলো প্রভু বা স্বামী এবং জগৎ মানে তো সবাই জানেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। এই ভাবে জগন্নাথ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণই হলেন জগতের প্রভু বা সৃষ্টিকর্তা, যে কথা বলা আছে গীতায়, এই ভাবে- আমিই এই জগতের পিতা মাতা, বিধাতা ও পিতামহ।

যা হোক, রথাযাত্রার এই তিন মূর্তি সাধারণত কাঠ দিয়ে বানানো হয় এবং তাদের হাত পা নেই, এক কথায় তিনটি মূর্তিই অসম্পূর্ণ। এর কারণ জানতে বা বুঝতে চাইলে পড়ুন উইকিপিডিয়া থেকে কপি পেস্ট করা পোস্টের নিচের এই অংশটুকু:

জগন্নাথদেবকে কেন্দ্র করে যে কাহিনিটি প্রচলিত আছে। কৃষ্ণ তাঁর ভক্ত রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের সম্মুখে স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে তাঁর মূর্তি নির্মাণের আদেশ দেন। মূর্তিনির্মাণের জন্য রাজা একজন উপযুক্ত কাষ্ঠশিল্পীর সন্ধান করতে থাকেন। তখন এক রহস্যময় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ কাষ্ঠশিল্পী তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন এবং মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন। সেই কাষ্ঠশিল্পী রাজাকে জানিয়ে দেন মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন। বন্ধ দরজার আড়ালে শুরু হয় কাজ। রাজা ও রানি সহ সকলেই নির্মাণকাজের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন তাঁরা বন্ধ দরজার কাছে যেতেন এবং শুনতে পেতেন ভিতর থেকে খোদাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে।

৬-৭ দিন বাদে যখন রাজা বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এমন সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়। অত্যুৎসাহী রানি কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করেন। দেখেন মূর্তি তখনও অর্ধসমাপ্ত এবং কাষ্ঠশিল্পী অন্তর্ধিত। এই রহস্যময় কাষ্ঠশিল্পী ছিলেন দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মূর্তির হস্তপদ নির্মিত হয়নি বলে রাজা বিমর্ষ হয়ে পড়েন। কাজে বাধাদানের জন্য অনুতাপ করতে থাকেন। তখন দেবর্ষি নারদ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। নারদ রাজাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন এই অর্ধসমাপ্ত মূর্তি পরমেশ্বরের এক স্বীকৃত রূপ।

তখন থেকেই জগন্নাথ দেবের ঐ অদ্ভুত মূর্তিকেই পূজা করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠতে পারে, মন্দির ছেড়ে প্রভু, বছরে একবার রথে যাত্রা করেন কেনো, যার থেকে এই অনুষ্ঠানের নাম হয়েছে- জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ?

সাধারণত দেবতাদের স্থান মন্দির এবং ভক্তরা দেবতা দর্শনে মন্দিরেই যায়। কিন্তু যেসব ভক্ত নানা কারণে মন্দিরে যায় না বা যেতে পারে না, তাদেরকে দর্শন দেওয়ার জন্য জগতের প্রভু নিজেই বছরে একবার পথে বেরিয়ে পড়েন,

এবং এতে সকল দর্শনার্থী পাপ মুক্ত হন।

এটাই হলো জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার কারণ।

,

এবার এই রথ সম্পর্কে জানুন।

এই রথের মাহাত্ম্য কি........??

এই রথ কে আমাদের দেহ রথের সাথে তুলনা করা হয়।

রথ প্রস্তুত করা হয় ২০৬ টি কাঠ দিয়ে।

যা মানব দেহের ২০৬ টি হাড়ের সাথে সামঞ্জস্য।

অর্থাৎ রথ হচ্ছে আমাদের দেহ গাড়ি।

এই রথে ১৬টি চাকা থাকে।

এই ১৬টি চাকা হচ্ছে :-

৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়, ৫টি কর্মেন্দ্রিয়, ৬টি রিপু।

মানুষের মধ্যে এই ১৬ টি ইন্দ্রিয় বিরাজ করে।

এই ১৬ টি ইন্দ্রিয় কে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। নাহয়

জীবনে দির্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোন সময়।

তাই এই ১৬ টি চাকা কে এই ১৬ ইন্দ্রিয়ের প্রতিক হিসেবে দেয়া হয়েছে।

রথের রশি হলো মানুষ এর মন।

রশি যেদিকে টান পড়বে দেহ সেদিকে ধাবিত হবে।।

বুদ্ধি বা জ্ঞান হচ্ছে রথের সারথি।

আর এই রথের রথি হচ্ছেন সয়ং ঈশ্বর।

অর্থাৎ, মানব দেহে যেমন ঈশ্বর পরমাত্মা রুপে আছেন।

তাই রথযাত্রার রথে জগন্নাথ, বলরাম, শুভদ্রা ছাড়া অন্য কেউ উঠে পরিভ্রমন করা পাপ।

এই রথের রথি শুধু মাত্র ঈশ্বর।

জয় শ্রী কৃষ্ণ

জয় সনাতন